support@autosolutionpoint.com

+880 1836 622224, +880 1861 402326

ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে কি হতে পারে

ভেজাল-ইঞ্জিন-অয়েল-ব্যবহারে-কি-হতে-পারে

আপনার বাইকের ইঞ্জিন হঠাৎ করে খারাপ হয়ে যায় বা ইঞ্জিন থেকে বিভিন্ন শব্দ পাওয়া যায় বা বাইকটি ঠিকঠাক মতো ইঞ্জিন পারফরম্যান্স দিচ্ছে না তাহলে বুঝতে হবে আপনার ইঞ্জিন অয়েলে ভেজাল আছে। 

আমরা অনেকেই মনে করি শুধুমাত্র ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করলেই মাইলেজ বেশি পাওয়া যাবে কিন্তু অনেকেই জানেন না যে ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে যেমন ইঞ্জিনের ও ক্ষতি হয় তেমনি মাইলেজ কমে যায়।

ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের কারণে যে সকল লক্ষণ গুলো দেখতে পারবেন বা বুঝতে পারবেনঃ

  • নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতি হবে
  • ভেজাল ইঞ্জিন অয়েলে ইঞ্জিন থেকে শব্দ বেশি করে
  • নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হবে
  • নকল ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহারে মাইলেজ কমে যাবে
  • নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে গিয়ার শিফটিং এ সমস্যা হবে

১। নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতি হবেঃ

জেনুইন বা আসল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করাতে বাইকের ভিতরের মুভিং পার্টস গুলি ভালোভাবে পারফরম্যান্স করতে পারে এবং জেনারেল বা আসল ইঞ্জিন অয়েলের আর্দ্রতা, গ্রেট এগুলো  পরীক্ষিত এবং ব্যবহার উপযুক্ত। 

নকল ইঞ্জিন অয়েল অয়েলের ভিসকোসিটি কম থাকে এবং এটি ব্যবহার অনুপযুক্ত। নকল বা ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল সঠিকভাবে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স দিতে পারেনা এবং বেশ কিছু পয়েন্টে নকল ইঞ্জিন অয়েল ঠিকভাবে কাজ করে না।  হলে মুভিং পার্টস গুলি তাড়াতাড়ি ক্ষয় হয়ে যায় এবং ইঞ্জিনের শব্দ বাড়িয়ে দেয়। 

আমরা সহজ ভাবে বলতে পারি ভালো ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স কে সঠিক ভাবে ধরে রাখে এবং ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের পারফরমেন্স কমিয়ে ফেলে।

২। ভেজাল ইঞ্জিন অয়েলে ইঞ্জিন থেকে শব্দ বেশি করেঃ

বাইকের অন্য সকল যন্ত্রপাতি ঠিক থাকলেও ইঞ্জিনের যদি জেনুইন ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা হয় তাহলে ইঞ্জিন থেকে কোন শব্দ পাওয়া যায় না। আপনি বাইক চালানোর সময় মনে করেন আপনার ইঞ্জিন থেকে আগের তুলনায় বেশি শব্দ দিচ্ছে তাহলে বুঝে নিবেন আপনি যে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার  করছেন সেই ইঞ্জিন  অয়েলে ভেজার রয়েছে।

৩। নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হবেঃ

দীর্ঘ সময় ধরে বাইক চালালে ইঞ্জিন গরম হবেই এটাই স্বাভাবিক কিন্তু জেনুইন বা আসল ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের কুলিং সিস্টেম খুব ভালোভাবে পারফরম্যান্স করতে পারে কিন্তু ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিন কুলিং সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করে না এর ফলে বাইকের ইঞ্জিন ওভারিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  এজন্য ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের ক্রয়ের পূর্বে নিশ্চিত করতে হবে এটি কি ভেজাল নাকি আসলে কিনা। 

৪। নকল ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহারে মাইলেজ কমে যাবেঃ

আপনার বাইকের সবকিছু ঠিক থাকার পরও যদি মনে হয় আপনার  রেডি পিকআপ ঠিকমতো কাজ করতেছে না বা ইঞ্জিনের পারফরমেন্স ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে বুঝতে হবে আপনার ইঞ্জিন অয়েলে ভেজাল রয়েছে । কেননা ভেজাল লুব্রিকেন্ট ঠিকমতো ইঞ্জিনে লুব্রিকেশন করতে পারে না। লুব্রিকেশন ঠিকমতো না করাতে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স নষ্ট হয়। 

৫। নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে গিয়ার শিফটিং এ সমস্যা হবেঃ

একটি বাইকে ইঞ্জিন, গিয়ার বক্স এবং ক্লাস সবকিছু একটি ইউনিটের মাধ্যমে কাজ করে আপনি যেভাবে পরিচালনা করবেন ঠিক সেভাবেই সে আপনাকে আউটপুট দিবে।  এর ভিতরে কোন অংশ খারাপ হলে ইঞ্জিনের পারফরমেন্স কমে যায় ক্লাস ঠিকমতো কাজ করে না এতে করে গিয়ার শিফটিং এ সমস্যা হয়। 

একটি বাইকে, ইঞ্জিন, গিয়ার বক্স এবং ক্লাচ একসাথে একটি ইউনিট হিসাবে কাজ করে। তাই যেকোনো একটি অংশের অ্যালাইনমেন্ট খারাপ হলে বাইকের পারফরমেন্স কমে যায়।

অনেক সময় আপনি লক্ষ্য করবেন যে বাইকের অংশগুলি নিখুঁত প্রান্তিককরণে রয়েছে, তবুও গিয়ারগুলি সহজে স্থানান্তরিত হচ্ছে না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরেও যদি এমনটা হয়, তাহলে আপনি জানেন যে আপনি যে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করছেন সেটি ভেজাল।

বাংলাদেশের সাধারণত বিভিন্ন গ্রেটের এবং বিভিন্ন কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার আমদানি করা হয়। বেশিরভাগ সময় ইঞ্জিন অয়েল আমদানি করা হয় ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং বিভিন্ন দেশ থেকে। 

শুধুমাত্র কোম্পানির অনুমোদিত যেসকল ডিলার রয়েছে তাদের কাছ থেকে ইঞ্জিন অয়েল ক্রয় করা নিরাপদ এবং নির্ভরশীল।  এদেশে অনেক নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা হয়। এবং এগুলো অনেক খুচরা দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।  তাই অনিশ্চিত ব্র্যান্ডের খোলা ইঞ্জিন অয়েল বা নকল  ইঞ্জিন অয়েল কেনা থেকে বিরত থাকুন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top