support@autosolutionpoint.com

+880 1836 622224, +880 1861 402326

এবিএস ব্রেক কি? কিভাবে কাজ করে? এবিএস ব্রেক ভালো নাকি খারাপ?

motorbike abs braking system

বন্ধুরা, বাইকের এবিএস ব্রেক সম্পর্কে আপনারা হয়তো অনেক ঘাটাঘাটি করেছেন। কিন্তু তাও এবিএস ব্রেক সম্পর্কে ধারণাটা হয়তো সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়। এবিএস ব্রেকিং সিস্টেমটা কিভাবে কাজ করে। বা সাধারণ ব্রেকের থেকে এবিএস ব্রেক টা কতটা ভালো। বা আপনি যদি একজন ভালো স্ট্যান্ডার্ড হতে চান তাহলে এবিএস কতটা কার্যকর। স্ট্যান্ড করার জন্য এবিএস ব্রেক কতটা ভালো বা খারাপ সে সম্পর্কে আপনার ধারণা হয়তো ক্লিয়ার না। 

এবিএস যার পুরো অর্থ হলো এন্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম

এটাকে বাংলায় বুঝতে হলে আমরা যে যেটা বুঝি এটা কখনো লক হয়না। বা যত হার্ড ব্রেক করেন না  কেন, এটার চাকা একবারে বন্ধ হয় না। এটাকে প্রথমে এন্টিস্টিড ব্রেকিং সিস্টেমে বলা হতো। মানে পিচলে যায় না। পরে এটা এন্টি লাগ ব্রেক সিস্টেম নামে পরিচিত, যেটাকে আমরা এবিএস বলে চিনি। এই ব্রেকিং সিস্টেম এই রাস্তায় চালানোর সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সাধারণ ব্রেকিং সিস্টেম এর চেয়ে প্রায় 40% কম। এই টেকনোলজি ব্রেক প্রথমে এরোপ্লেনে ব্যবহার করা হতো। তারপর হাই পাওয়ার সুপার গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এবং এটা ১৯৮৮ সালের bmw মোটরসাইকেলে  প্রথম ব্যবহার করা হয়। এখন বর্তমানে প্রায় সকল মোটরসাইকেলেই টিভিএস ব্রেকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। তো যাই হোক আমরা জেনে নেই এবিএস সিস্টেমটা কিভাবে কাজ করে।

ABS Braking System

এ বি এস কিভাবে কাজ করে,

এ বি এস দিয়ে কিভাবে কাজ করে সেটা জানার আগে আমরা একটু জেনে নেই সাধারণ ড্রিঙ্ক করে কিভাবে কাজ করে। সাধারণ ব্রেকে  ব্রেক লিভারের কাছে একটা মাস্টার সিলিন্ডার থাকে এই মাস্টার্স সিলিন্ডারে ব্রেক অয়েল দেয়া থাকে। তার নিচে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ এর মত একটা সিলিন্ডার থাকে। এরমধ্যে একটা পিস্টন দেয়া থাকে যখন লিভারটি প্রেস করা হয় তখন পিস্টন  ব্রেক অয়েলকে চাপ প্রয়োগ করে ।ওই চাপের ফলে ব্রেক অয়েলকে চাপ প্রয়গ করে ব্রেক পাইপের সাহায্যে চাকায় থাকা ডিস্ক কেলিপারে যায়। ডিস্ক কেলিপারের ভিতরে দুটি পিস্টন থাকে এবং ব্রেক ডিসকে আটকে রাখার জন্য দুটি ব্রেক প্যাট থাকে। স্টোনের সংখ্যা পিস্টনের সংখ্যা কোন কোন ব্রেকিং সিস্টেমে একটা এবং কোন কোন ব্রেকিং সিস্টেমে দুটো আবার কোন কোন ব্রেকিং সিস্টেমে চারটি ও হতে পারে। সাধারণ সব বাইকগুলোতে একটা ব্রেকের জন্য দুটি পিস্টন থাকে , এরপর  ব্রেক লিভার চাপার ফলে ব্রেক ওয়েল ক্যালিপারের পিস্টনকে ধাক্কা দেয় এবং পিস্টন টি ব্রেকপ্যাড কে চাপ প্রয়োগ করে । এবং দুই পাশে থাকা ব্রেকপ্যাড ব্রেক ডিস্ক এর উপরে চাপ প্রয়োগ করে । ব্রেক ডিস্ক বলতে চাকায় লাগানো থাকা ডিস্কে বুঝায়।

এ বি এস কিভাবে কাজ করে,

ব্রেকপ্যাড যখন ডিসকে চাপ প্রয়োগ করে তখন চাকা থেমে যায়। এভাবেই কাজ করে সাধারন ডিস ব্রেক। এখানে ব্রেক লিভারের সাথে চাকার সরাসরি সংযুক্ত থাকে ব্রেক লিভারে চাপ প্রয়োগ করলে চাকা থেকে যায়। মানে আপনি যত জোরে ব্রেক চাপবেন চাকার উপরে ঠিক তত জোরে প্রেসার পড়বে । এতে সমস্যা হয় কি, আমরা যখন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই, তখন ব্রেক লিভার টা জোরে চেপে ধরার ফলে চাকা লক হয়ে যায় এবং পিছলে যেতে শুরু করে। এভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এই সমস্যাটাকে দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয় এবিএস ব্রেকিং সিস্টেম। এবিএস ব্রেকিং সিস্টেমে সরাসরি লিভারের সাথে চাকা সংযুক্ত থাকে না তার মাঝে একটি এবিএস মডিউল ব্যবহার করা হয়। এবং প্রতি চাকাতে একটি সেন্সর লাগানো থাকে। সাধারন ব্রেকে ব্রেক লিভাবেরে সাথে চাকার সরাসরি যোগাযোগ ছিলো। এবিএস সিস্টেমে সেটা নয়। ব্রেকিং সিস্টেমে আপনি ব্রেক করলে ব্রেক অয়েলের প্রেসার চাকাতে না গিয়ে এবিএস মডিউলে যায়। এবং এবিএস মডিউল চাকার গতি অনুযাই প্রয়োজন মতো ব্রেক অয়েল চাপ ব্রেক ডিস্ক কেলিপারে পাঠায়।

abs braking system

এ বি এস কিভাবে কাজ করে,

চাকাটা কতো জোরে ঘুরছে কতটুকু ব্রেকের চাপ প্রয়োগ করলে চাকা স্লিপ করবে না সেই অনুযায়ী এবিএস মডিউল ব্রেক অয়েল কেলিপারে পাঠায়। এবং চাকাটা কত জোরে ঘুরছে এটা নির্ণয় করে এবিএস সেন্সর। এবিএস সেন্সর চাকা কতো জোরে ঘুরছে এবিএস মডিউলকে সিগন্যাল দিলে সেই অনুযায়ী এবিএস মডিউল ব্রেক অয়েল থেমে থেমে কেলিপারে পাঠায়। এতে ব্রেকটা ধরে ছারে ধরে ছারে এভাবে কাজ করে। এটা সাধারন ব্রেকের তুলনায় কম সময়ে এবং কম দূরত্বে থামিয়ে ফেলে।

এখন হয়তো আপনাদের মধ্যে একটা প্রশ্ন আসতে পারে। যদি ব্রেকটাকে থেমে থেমে এপ্লাই করা হয়, তাহলে সাধারণ ব্রেকের থেকে কম দূরত্বে কিভাবে থামিয়ে ফেলে? তো বন্ধুরা এর কারনটা বলছি একটা উধাহরনের মাধ্যমে। একটা পাথরকে যদি সমান যায়গা দিয়ে ঠেলতে বলা হয়। তাহলে কি হবে, আপনি যখন প্রথমে ধাক্কা দেয়া শুরু করবেন তখন আপনার শক্তি বেশি প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু যখন পাথরটি চলতে শুরু করবে তখন আপনার শক্তি কম লাগবে। যদি পাথরটিকে থামিয়ে আবার ঠেলতে বলা হয়, আবার থেমিয়ে আবার ঠেলতে বলা হয়। এবাবে কিছুদুর নিতেই অনেক পরিশ্রম করতে হবে। ঠিক এই নিয়মেই এবিএস সিস্টেম কাজ করে। এবিএস সিস্টেম চাকা যখন পিস্লে যেতে শুরু করে তখন ব্রেকটি ছেরে দিয়ে আবার ব্রেক করা হয়, আবার ছেরে দিয়ে আবার ব্রেক করা হয়, এই কাজটি এবিএস মডিউল করে। এভাবেই সাধারণ ব্রেকের তুলনায় এবিএস ব্রেকিং সিস্টেম কম দূরত্ব থামতে পারে। আবার সম্পূর্ণ ব্রেক চেপে ধরে আপনি দিক পরিবর্তন করতে পারবেন। 

Motorcycle Standing

এ বি এস কিভাবে কাজ করে,

এখন হয়তো আপনি বলতে পারেন আমি সাধারণ বাইক নিয়ে এবিএস এর মত থেমে থেমে ব্রেক এপ্লাই করি তাহলে তো এবিএস ব্রেকের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু না বন্ধুরা এটা সম্ভব নয়। কিন্তু হ্যাঁ সাধারণভাবে বাইক চালানোর সময় আপনি এই পদ্ধতি অবলম্বন করে বাইক চালাতে পারবেন কিন্তু যখন আপনি দুর্ঘটনার সামনাসামনি হবেন তখন কিন্তু আপনার মাথায় এবিএস মত ব্রেক করতে হবে এটা কাজ করবে না । তখন আপনার শরীরের প্রতিবর্ত কিয়া কাজ করবে । প্রতিবর্ত কিয়া বলতে শরীরের এমন একটি কিয়া যেটা আমরা চিন্তা না করেই করি । যেমন আপনি ভুল করে যদি গরম কিছুতে হাত দিলে ফেলেন তখন সঙ্গে সঙ্গেই আপনার হাত সরে যায় তখন আপনি চিন্তা করার সময় পান না।  আপনার হাতটি গরম কিছুতে লেগেছে আপনার হাতটি সরাতে হবে এটা কিন্তু আপনার চিন্তা থেকে হয় না। এখানে আপনার হাতটি নিজে থেকেই কাজ করে। এটাকেই আমাদের শরিলের প্রতিবর্ত কিয়া বলা হয়। আর দুর্ঘটনার সময় আমাদের প্রতিবর্ত কিয়া কাজ করে। যার কারনে আমারা ব্রেকটা অজান্তেই খুব জোরে চেপে বসি। তখন চাইলেই আমরা ব্রেকটা আস্তে চাপতে পারবো না বা এবিএস এর মতো ধরি ছারি শরি ছারি করে ব্রেক চাপতে পারবো না। আপনি একবার ভেবে দেখুন আপনি যখন প্রথম বাইক চালানো সিখেছেন তখন বাইকের সকল কাজ গুলো মনে করে করে করতে হতো। যে এবার আমাকে  ক্লাস চাপতে হবে, এবার গিয়ার ফেলতে হবে। যখন প্রতিবর্ত কিয়াতে পরিবর্তন হয়ে যাবে তখন আর ভাবতে হবে না কখন ক্লাস চাপতে হবে কখন ব্রেক চাপতে হবে, তখন শরিল ঠিক সময়ে ঠিক কাজ করে ফেলবে। তাই দুর্ঘটনার সময় চাইলেও আপনি এবিএস এর মতো করে ব্রেক এপ্লাই করতে পারবেন না বা ব্রেকটাকে আস্তে চাপতে পারবেন না। 

এবিএস সিস্টেমকে দুটি চ্যানেলে ভাগ করা হয়েছে।

  1. সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস
  2.  ডুয়েল চ্যানেল এবিএস 

সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস বলতে বুঝায় বাইক হলে সামনের এক চাকায় এবং চার চাকা হলে সামনের দুই চাকায় এই বি এস থাকে। সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস হলে পিছের চাকায় এই সিস্টেম কাজ করবেনা। 

 ডুয়েল চ্যানেল এবিএস বলতে সব চাকাতেই এই সিস্টেম কাজ করবে। বাইক হলে দুই চাকাতেই কাজ করবে, চার চাকার হলে চার চাকাতেই এই সিস্টেম কাজ করবে।  

দামের দিক বিবেচনা করলে নন এবিএস এর থেকে এবিএস এর দাম একটু বেশি, এবং সিঙ্গাল এবিএস এর থেকে ডুয়েল এবিএস এর দাম আরেকটু বেশি। আর হ্য দাম একটু বেশি হলেও আপনার জিবনের থেকে বেশি না। তাই সামান্য কিছু টাকা বেশি গেলেও অবশ্যই এবিএস সিস্টেমের বাইক কেনা উচিৎ। কারন এখানে আপনার জিবনের প্রশ্ন রয়েছে। কারন সামান্য কিছু টাকা আপনার জীবন বাচিয়ে দিতে পারে।

আর যারা বাইকে স্টান করতে চান

আর যারা বাইকে স্টান করতে চান তাদের জন্য এবিএস ব্রেকিং সিস্টেম সুবধাযনক নয়। এবিএস সিস্টেমের বাইকগুলো দিয়ে আপনি হয়তো বেসিক কিছু স্টান করতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি এডভান্স বা প্রফেশনাল লেভেলের স্টান করতে চান তাহলে এবিএস ব্রেকিং সিস্টেম আপনার জন্য সুবিধার নয়। কারন স্টান করার জন্য ব্রেকিং সিস্টেমটে সম্পুর্ন আপনার হাতে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এবিএস ব্রেকিং সিস্টেমের সম্পুর্ন আপনার হাতে থাকে না এর ৬০% আপনার হাতে থাকে আর বাকি ৪০% এবিএস মডিউল কট্রোল করে। কিন্তু বাইক স্টান করার জন্য ব্রেকিং সিস্টেম ১০০% আপনার হাতে থাকা প্রয়োজন। ধরুন আপনি এবিএস ব্রেকিং অয়ালা বাইক নিয়ে আপনি স্টপ ই করতে যাচ্ছেন তখন আপনি সামনের ব্রেকটা খুব জোরে চাপবেন তখন এবিএস সিস্টেম কি করবে, ব্রেকটাকে হালকা করে রিলিঝ করে দিবে। যার ফলে আপনি ভালো করে স্টপ ই করতে পারবেন না। এজন্য বাইকে স্টান করার জন্য এবিএস সিস্টেম না থাকাই ভালো। আপনি যদি এবইএস বাইক কিনে থাকেন এবং সেটা দিয়ে স্টান করতে চান তাহলে চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার আশপাশে বাইকের কোন গ্যরেজে গিয়ে এই সিস্টেম অফ করে চালাতে পারবেন। আবার পরবর্তিতে চাইলে আপনি আবার এবিএস অন করে চালাতে পারবেন। 

তো বন্ধুরা আশা করছি এবিএস সম্পর্কে ভালোভাবে বুজতে পারছেন। ভিডিওটি উপকারে আসলে সাবস্ক্রাইব এবং লাইক দিয়ে পাসে থাকবেন। অটোমোবাইল সম্পর্কে খুটি নাটি কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। 

ফেইজবুক থেকে দেখে থাকলে ফলো এবং লাইক দয়ে পাশে থাকবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top